দৈনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
ঢাকাSunday , 23 November 2025
  1. Blog
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কর্পোরেট
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৃদু ভূকম্পন দিচ্ছে বড় ভূমিকম্পের আভাস

বার্তা কক্ষ
November 23, 2025 9:42 am
Link Copied!

প্রায় ৩২ ঘণ্টার মধ্যে চার দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল। শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার ঝাঁকুনির পর শনিবার সকাল ও সন্ধ্যায় আরও তিনটি কম্পন অনুভূত হয়— যার একটি নরসিংদীতে, বাকি দুটি রাজধানীর বাড্ডা অঞ্চলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিক এই কম্পনগুলো বড় ধরনের ভূমিকম্পের আগাম সংকেতও হতে পারে।

তাদের ব্যাখ্যা— ভূ-পৃষ্ঠের যেসব স্থানে ভূমিকম্পের শক্তি জমা হতে থাকে, ভূতত্ত্বের ভাষায় সেগুলোকে বলা হয় সাবডাকশন জোন। আর সেই জোনের খুব কাছাকাছিই অবস্থান ঢাকার। ভূগর্ভে বর্তমানে এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার মতো সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্পগুলো সাধারণত সাবডাকশন জোন ও তার সংলগ্ন এলাকায় ঘটে থাকে। তাই ভয় না পেয়ে সচেতনতা, প্রস্তুতি এবং ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণই এখন জরুরি। পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূত স্থাপনা দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।

শুক্রবারের শক্তিশালী কম্পনের পর রাজধানীজুড়ে আতঙ্কের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। তার ওপর আবার মাত্র দেড় দিনের ব্যবধানে আরও তিন দফা কম্পন— জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। অনেকেই ভাবছেন, বড় ভূমিকম্প কি সত্যিই ঘনিয়ে আসছে? ৬ বা তারও বেশি মাত্রার আঘাত এলে কত ভবন থাকবে টিকেথাকার মতো? হাসপাতাল কি সেবা দিতে পারবে? অগ্নিকাণ্ড বা উদ্ধারকাজ কতটা সম্ভব হবে? যে ভবনে বসবাস বা কাজ চলছে— সেটি কতটা ভূমিকম্প সহনীয়? সরকারি সংস্থাগুলোর কি এসব সঠিকভাবে মূল্যায়নের আধুনিক যন্ত্রপাতি আছে? প্রশ্নের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন— এ ধরনের ভীতি কমাতে সরকারকে আরও সক্রিয়ভাবে সচেতনতা ও প্রস্তুতিমূলক উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজন জাতীয় কমিটি, নিয়মিত সেমিনার এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তে দ্রুত অ্যাকশন।

ঢাকার সাম্প্রতিক কম্পনের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও ভূ-বিজ্ঞানী ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দেশের কয়েকটি জেলা বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান তিনটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে— যেখানে পূর্বদিকে বার্মিজ সাবপ্লেটের নিচে ইন্ডিয়ান প্লেট স্লাইড করছে, আর উত্তরে সেই ইন্ডিয়ান প্লেট ঢুকে যাচ্ছে ইউরেশিয়ান প্লেটের তলায়। সাবডাকশনের এই দীর্ঘ জোন সিলেট থেকে টেকনাফ হয়ে জাভা-সুমাত্রা পর্যন্ত বিস্তৃত, যা ঢাকার খুব কাছেই। সঙ্গে আছে উত্তরের ডাউকি ফল্ট ও মধুপুর অঞ্চলের একাধিক ফল্ট— যেগুলো ভূমিকম্পের ইতিহাসে শক্তিশালী প্রমাণ বহন করে।

তিনি বলেন, “সাবডাকশন জোনের কাছাকাছি অবস্থানই বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়ায়। ঢাকার আশপাশে প্রয়োজনীয় সব ভূ-তাত্ত্বিক শর্তই বিদ্যমান।”

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ আর্থকোয়াক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, ছোট ছোট এই কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের ফোরশকও হতে পারে। তার মতে, “নরসিংদীর পলাশে সকালবেলার ভূমিকম্প ও বাড্ডার সন্ধ্যার দুটি কম্পন— এগুলো ভালো লক্ষণ নয়। বড় ভূমিকম্প হওয়ার আগে সাধারণত এমন ফোরশক দেখা যায়। তবে নিশ্চিত হতে আরও ২-৩ দিন পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। একই ধরনের কম্পন যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ৭-মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ধারাবাহিক হালকা ভূমিকম্প মানুষের মধ্যে ভয় ও মানসিক চাপে ফেলছে। অনেকেই শুক্রবারের কম্পনের পর থেকেই ট্রমায় ভুগছেন। তিনি জানান, ঢাকার পূর্ব ও উত্তর দিকের প্রধান দুটি উৎস— ডাউকি ফল্ট ও সাবডাকশন জোন— বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বহন করে। বড় ভূমিকম্প রাজধানীতে নাও ঘটতে পারে, কিন্তু একই জোনে ছোট-মাঝারি কয়েকটি ভূমিকম্পও বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।