দুই বছর ছয় মাসের দীর্ঘ নির্বাসন শেষে বার্সেলোনা আবার পা রাখছে নিজের আঙ্গিনায়—ক্যাম্প ন্যুতে। আগামী শনিবার (২২ নভেম্বর) লা লিগায় অ্যাথলেটিক বিলবাওকে স্বাগত জানাবে তারা।
স্টেডিয়ামের চলমান সংস্কারের কারণে দর্শকসংখ্যা সীমাবদ্ধ থাকবে ৪৫ হাজার ৪০১ জনে। তবুও, এতদিন পর ঘরের মাঠে ফেরাটা দলের জন্য যেন নতুন জ্বালানি, নতুন এনার্জি।
ক্যাম্প ন্যুর পুনর্জাগরণের পেছনে রয়েছে এক বিশাল ব্যয়বহুল ও সময়নিষ্ঠ প্রকল্প—১.৫ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগে নির্মাণ কাজ শেষ হলে ধারণক্ষমতা পৌঁছাবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজারে।
মৌসুমের শুরুতে নিরাপত্তা অনুমোদন না মেলায় বার্সেলোনাকে দুই ম্যাচ খেলতে হয়েছিল ছোট জোহান ক্রুইফ স্টেডিয়ামে।
দলগত চ্যালেঞ্জও কম নয়। মার্ক-আন্ড্রে টার স্টেগেন ও পেদ্রি এখনো ইনজুরি তালিকায়। নিষেধাজ্ঞার কারণে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং অনুপস্থিত, তার জায়গায় মার্ক কাসাদো নামতে পারেন। আক্রমণভাগে কিছু রিলিফ—ইয়ামাল ও রাফিনিয়া দু’জনই ফিরেছেন, আর গোলকিপার জোয়ান গার্সিয়া পুরোপুরি প্রস্তুত। রক্ষণদুর্বলতা অবশ্যই বার্সার সবচেয়ে বড় পেইন পয়েন্ট—শেষ নয়টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে একটিও ক্লিন শিট নেই।
বিলবাওয়ের অবস্থাও খুব ভিন্ন নয়। ইনাকি উইলিয়ামস, উনাই এগিলুজ এবং মারোয়ান সান্নাদি এখনো বাইরে, বেনাত প্রাদোস দীর্ঘমেয়াদী ইনজুরিতে। ইয়েরাই আলভারেজ নিষিদ্ধ। তবে নিকো উইলিয়ামস ইনজুরি কাটিয়ে আগের ম্যাচেই গোল করেছেন—এবারও তার শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা জোরালো।
বার্সা কোচ হানসি ফ্লিক মনে করছেন, ক্যাম্প ন্যুতে প্রত্যাবর্তন দলের মানসিক ফোর্টিটিউড বাড়িয়ে দেবে। অন্যদিকে, বিলবাও ফুল-ব্যাক ইনিয়েগো লেকুয়ে জানিয়েছেন—তাদের ডিফেন্স লাইনের প্রধান টার্গেট হবে তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে থামানো।
দুই দলের ইতিহাসও সমৃদ্ধ—২৪৪ মোকাবিলায় বার্সার জয় ১২৪, বিলবাওয়ের ৮০। সাম্প্রতিক ধারায় বার্সাই এগিয়ে—লা লিগায় শেষ ১১ ম্যাচের ৯টিতে তারা জিতেছে।
ক্যাম্প ন্যুতে প্রত্যাবর্তন বার্সেলোনার জন্য যেমন অনুভূতির রিসেট, তেমনি লিগ টেবিলের প্রতিযোগিতায়ও এটি বড় ধাপ। ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও তারা ঘরের মাঠে আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, বিলবাও চাইবে নিজেদের অস্থির ফর্ম কাটিয়ে বার্সার রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাজে লাগাতে।
ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নতুন করে সাজানো স্টেডিয়ামের আবেগ, আর পয়েন্ট টেবিলের চাপ—সব মিলিয়ে উচ্চ-তীব্রতার এক ম্যাচের অপেক্ষায় ভক্তরা।

