দৈনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
ঢাকাTuesday , 18 November 2025
  1. Blog
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কর্পোরেট
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রাইজবন্ড এবং সঞ্চয়পত্রসহ পাঁচ ধরনের সেবা বন্ধ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বার্তা কক্ষ
November 18, 2025 8:51 am
Link Copied!

বাংলাদেশ ব্যাংক সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড বিক্রি এবং কয়েকটি গ্রাহকসেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বন্ধ হতে যাওয়া পাঁচ সেবার মধ্যে রয়েছে—ছেঁড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত নোট বদল, সরকারি ট্রেজারি চালান গ্রহণ এবং চালানের ভাংতি অর্থ প্রদান।

প্রথম ধাপে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে এ সেবাগুলো বন্ধ হবে। পরবর্তী সময়ে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগীয় কার্যালয়েও ধাপে ধাপে একই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সেবা না মিললেও গ্রাহকরা এসব সুবিধা বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো থেকে আগের মতোই পাবেন।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেন কোনো বিঘ্ন ছাড়াই এসব সেবা দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি বাড়াবে এবং গ্রাহকদের সচেতন করতে শিগগিরই প্রচারণাও চালানো হবে। এ সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যেই জানানো হয়েছে।

মতিঝিলসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় আগে সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড কেনাবেচাসহ মোট ১০ ধরনের সেবা দেওয়া হতো। মতিঝিল অফিসের ২৮টি কাউন্টার এ কার্যক্রম পরিচালনা করত। আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা জোরদার, স্বয়ংক্রিয় ভল্ট স্থাপন এবং মূল ভবনের নিরাপত্তা উন্নত করতে সম্প্রতি কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার অংশ হিসেবে পাঁচ সেবার জন্য নির্ধারিত ১২টি কাউন্টার ৩০ নভেম্বরের পর বন্ধ হয়ে যাবে।

ডিসেম্বর থেকে মতিঝিল কার্যালয়ে নগদ টাকা লেনদেন, সঞ্চয়পত্র বা প্রাইজবন্ড কেনাবেচা ও সরকারি ট্রেজারি চালান জমা আর নেওয়া হবে না। ভাংতি টাকা প্রদান ও ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলের সেবাও বন্ধ করা হবে।

তবে এখনই পুরোপুরি সব সেবা বন্ধ হচ্ছে না। মোট ১৬টি কাউন্টার খোলা থাকবে—যেখানে ধাতব মুদ্রা বিনিময়, স্মারক মুদ্রা বিক্রি, অপ্রচলিত নোট সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ব্যাংক-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু লেনদেন পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে এসব সেবা কীভাবে ধীরে ধীরে বন্ধ করা হবে সে বিষয়ে গভর্নর ইতোমধ্যেই দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকেই নয়—সরকারি ও বেসরকারি সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং পোস্ট অফিসেও চলে। প্রাইজবন্ডও সব ব্যাংকেই পাওয়া যায়। ছেঁড়া নোট বদল বা অটোমেটেড চালান সেবাও ব্যাংকগুলো দেয়। তবু নির্ভরযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার কারণে অধিকাংশ গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখাতেই বেশি ভিড় করতেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছে থাকা সঞ্চয়পত্রের পরিমাণ ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা, যার ৩০% এরও বেশি লেনদেন হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে।

এর মধ্যে গত মাসে মতিঝিল অফিসে সার্ভার জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আত্মসাতের ঘটনা শনাক্ত হয়। আরও ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে এবং বিভিন্ন তদন্ত কমিটি কাজ করছে। সেই সময় থেকেই ওই অফিসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ আছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—সাম্প্রতিক জালিয়াতি ঘটনা সেবা বন্ধের মূল কারণ নয়। কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক একটি উচ্চ নিরাপত্তা জোন; তাই জনসাধারণের চলাচল সীমিত করা, ভবন ও ভল্ট নিরাপত্তা জোরদার করা—এসব বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।