আমাদের ই-পেপার পড়তে ভিজিট করুন
ই-পেপার 📄
দৈনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
ঢাকাMonday , 5 January 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কবিতা
  6. কর্পোরেট
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম হওয়া ২৫১ ব্যক্তির এখনো খোঁজ মেলেনি

Link Copied!

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগের দেড় যুগের শাসনামলে সংঘটিত গুমের ঘটনায় ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে সংঘটিত ১ হাজার ৫৬৯টি গুমের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৫১ জন ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ, যাদের মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া গুম হওয়ার নির্দিষ্ট সময় পর আরও ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। কমিশনের তথ্যমতে, এসব ব্যক্তির অনেকেই তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’-এ নিহত হন অথবা নদীতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে জমা পড়া সীমিতসংখ্যক অভিযোগ থেকেই অন্তত ২৮৭টি মৃত্যুর ঘটনা সরাসরি গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উঠে এসেছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এ সময় কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কমিশন জানায়, মোট ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে। অন্যদিকে, ১১৩টি অভিযোগ গুমের আইনি সংজ্ঞার মধ্যে না পড়ায় সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। কিছু ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি, আবার কিছু ক্ষেত্রে নিয়মিত গ্রেপ্তার হলেও ২৪ ঘণ্টার কম সময় হেফাজতে রাখা হয়েছিল।

তবে কমিশনের ধারণা, প্রকৃত গুমের সংখ্যা জমা পড়া অভিযোগের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগগুলো সম্ভবত মোট ঘটনার এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ মাত্র। সে হিসাবে দেশে সম্ভাব্য গুমের সংখ্যা ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গুমের ঘটনায় র‍্যাব, পুলিশ ও ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন বাহিনীর নাম। বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট অভিযোগের প্রায় এক-চতুর্থাংশে র‍্যাবের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণ করে কমিশন জানিয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ৪৭৬ জন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৩৬ জন, বিএনপির ১৪২ জন, ছাত্রদলের ৪৬ জন এবং যুবদলের ১৭ জন রয়েছেন। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, গুমের ঘটনাগুলো ছিল রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যভিত্তিক এবং বিরোধী দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরাই বেশি আক্রান্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের বড় অংশ ছাত্র ও যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় তরুণদের বাড়তি ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। বর্তমানে নিখোঁজদের মধ্যেও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য প্রায় ৬৮ শতাংশ এবং জামায়াত ও শিবিরের সদস্য প্রায় ২২ শতাংশ।

লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ১ হাজার ৫৪৬ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে পুরুষ ছিলেন প্রায় ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নারী মাত্র ২৩ জন। কমিশনের মতে, সামাজিক চাপ ও ভয়ভীতির কারণে নারী গুমের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।

বছরভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৯ সালের পর গুমের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এবং ২০১২ সালের পর তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ২০১৩–১৪ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে গুমের ঘটনা বেড়ে যায়। ২০১৮ সালের পর কিছুটা কমলেও রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংঘাতের সময়, যেমন ২০২২ সালে, গুমের সংখ্যা আবার বাড়ে।

কমিশন সতর্ক করে জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিশেষ করে শুরুর দিকের অনেক ঘটনা ভয় ও মানসিক আঘাতের কারণে অভিযোগ হিসেবে কখনও সামনে আসেনি।