বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের উপলক্ষে ঢাকায় এসে এক বিরল কূটনৈতিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো দক্ষিণ এশিয়া। দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ভারত ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে হঠাৎ এই সৌজন্য সাক্ষাৎ কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর ঠিক আগে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করের সাক্ষাৎ হয়। এ সময় দুজনেই সৌজন্যমূলকভাবে হাত মেলান এবং সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময় করেন—নীরব কিন্তু অর্থবহ এক ডিপ্লোম্যাটিক জেসচার।
জানা গেছে, দুপুরে খালেদা জিয়ার জানাজার আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ ব্লকের একটি নির্ধারিত কক্ষে সার্কভুক্ত ছয়টি দেশের প্রতিনিধিরা অবস্থান করছিলেন। সেই মুহূর্তে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এগিয়ে গিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সৌজন্য বিনিময় করেন, যা উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।
ওই কক্ষে তখন আরও উপস্থিত ছিলেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি. এন. ধুংগিয়েল, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদ এবং শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের মে মাসে সামরিক উত্তেজনার পর এটিই ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শোকের আবহে জন্ম নেওয়া এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ তাই শুধু সৌজন্য নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতির জন্য এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী সিগন্যাল—যেখানে ইতিহাসের ভারের মাঝেও মানবিকতা কথা বলে।


