বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য ও মতবিনিময় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর একটি প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন সাদিক কায়েম।
বৈঠকের শুরুতেই ডাকসু প্রতিনিধিরা সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণার পাশাপাশি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তারেক রহমান—যেখানে আবেগ ছিল, আবার রাষ্ট্রচিন্তার স্ট্র্যাটেজিক স্পষ্টতাও ছিল।
ডাকসু প্রতিনিধিরা তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানের প্রতীক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
বৈঠকে তারেক রহমান বলেন,“ভিন্নমত (Difference of Opinion) গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের ঐক্য অটুট থাকতে হবে।”
তিনি দেশের স্বার্থে তরুণদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নিজের ছাত্রজীবনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন,“আমরা যখন তোমাদের বয়সে ছিলাম, তখন দেশ ছিল অনেক বেশি অস্থিতিশীল—সন্ত্রাস ও রাহাজানি ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। আমি চাই না, আমার সন্তানরা কিংবা তোমরাও সেই বাংলাদেশ ফেইস করো।”
ভবিষ্যৎ রাজনীতির রোডম্যাপ প্রসঙ্গে তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন সংগ্রাম ও ত্যাগের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিকে ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন,“বাংলাদেশের স্বার্থে সকল প্রকার আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি, ইসলামোফোবিয়া, সন্ত্রাস ও দেশবিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।”
এ সময় তিনি ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত সংগ্রাম জারি রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বৈঠকে ডাকসুর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন—
-
সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ
-
সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের
-
কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন
-
কার্যনির্বাহী সদস্য শাহিনুর রহমান


