দীর্ঘ দেড় দশকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় পুলিশ, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা এখন বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে—এমন মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) পূর্বাচল নতুন শহরে অবস্থিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি)-এর সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এবারের সমাবর্তন উৎসর্গ করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি-এর স্মরণে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে ব্যক্তি পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হলেও টেকসই ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশ পিছিয়ে রয়েছে। এক সময় পুলিশ, বিচার ও প্রশাসনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কাঠামোগতভাবে এগিয়ে থাকলেও গত দেড় দশকে সেগুলোর ভিত ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করা হয়েছে। এর ফলেই আজ এসব প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের পুনর্গঠনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে—রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি হলো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। যেসব দেশ প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তারাই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পেরেছে। অথচ আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রাধান্য পেয়েছে, যার ফলে অর্জনগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শরিফ ওসমান হাদির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। জানাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি জীবনে এত বড় জানাজা আগে কখনো দেখিনি”—যা হাদির প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মানের প্রতিফলন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। স্বাগত বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ডা. এ এম শামীম, ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নওজিয়া ইয়াসমীনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ।
এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি বিভাগের মোট ৬৭২ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ৩ জন শিক্ষার্থী চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল, ৪ জন ভাইস-চ্যান্সেলর সিলভার মেডেল এবং ২০ জন শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।



