
প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব–১৭ ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে নিল পর্তুগাল। কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে অস্ট্রিয়াকে ১–০ গোলে পরাজিত করে ইতিহাস গড়ল তারা। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে আলো ছড়ানো আনিসিও ক্যাব্রালই ফাইনালের একমাত্র গোলের নায়ক।
খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ছিল উপচে পড়া উদ্দীপনা। উদ্বোধনী পর্বের পর ম্যাচ শুরু হতেই দুই দলের দ্রুতগতি, চাপ ও শারীরিক লড়াই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৫ মিনিটে দুয়ার্তা কুনিয়ার গোলটি রেফারি বাতিল করেন—হফমানের ওপর ফাউলের বিষয়টি ভিএআর নিশ্চিত করে। এরপরই পাল্টা আক্রমণে মজারের শট ফিরিয়ে দেন ফুর্তাদো, আর দেশিশকুর দুর্দান্ত প্রচেষ্টা থামিয়ে দেন রোমারিও কুনিয়া।
ক্রমাগত চাপ পর্তুগালকে আরও তীব্র করে তোলে। ডানদিক দিয়ে কুনিয়ার ড্রিবলিং ও দৌড় অস্ট্রিয়ার রক্ষণকে বারবার বিচলিত করে। ৩০ মিনিটে মাতেুস মিদের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু নির্মাণ করে ডান প্রান্ত থেকে আসা বল ক্যাব্রাল দূরের পোস্টে নিখুঁত ফিনিশে পাঠিয়ে দেন। ভিএআর যাচাইয়ের পর গোলটি নিশ্চিত হয়। টুর্নামেন্টে এটি ছিল ক্যাব্রালের সপ্তম গোল।
অস্ট্রিয়া বিরতির আগে একটি ভালো চেষ্টা করেছিল—ওয়াইনহানডলের দূরপাল্লার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তারা ফিরে আসে আরও সংগঠিত হয়ে। বল দখলে এগিয়ে থেকে দেশিশকু, জোসেপোভিচ, মার্কোভিচ ও মজারের লং রেঞ্জ শটে ব্যস্ত সময় পার করেন রোমারিও কুনিয়া। এক পর্যায়ে এনডুকওয়ের হেড ফিরিয়ে দেওয়ার পর বদলি ফ্রাউশারের শট পোস্টে লাগে—সেটিই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় সুযোগ।
শেষ মুহূর্তে সেই হাতছাড়া সুযোগই অস্ট্রিয়ার জন্য হতাশা হয়ে ফিরে আসে। পর্তুগাল দৃঢ়ভাবে রক্ষণ সামলে লিড ধরে রাখে। শেষ বাঁশি বাজতেই তরুণ পর্তুগিজদের উল্লাসে ভরে ওঠে স্টেডিয়াম—ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বমঞ্চে তাদের দ্বিতীয় বড় সাফল্য।
অনূর্ধ্ব–১৭ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল এখনো নাইজেরিয়া—তারা জিতেছে সর্বোচ্চ ৫টি শিরোপা। চারটি শিরোপা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল।
এদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইতালি ও ব্রাজিল। নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৪–২ ব্যবধানে জিতে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করে ইতালি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট মোঃ শরীফ মিয়া
অফিস ঠিকানা: বাড়ি নং ১৫ (৬ষ্ঠ তলা), রোড নং ১৯, সেক্টর নং ১১, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
somriddhabangladesh@gmail.com
Copyright © 2025 দৈনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ. All rights reserved.