রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দিয়েছেন, মস্কো ইউরোপের অন্য কোনো দেশ আক্রমণ করবে না—এ বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা দিতেও তারা প্রস্তুত। পশ্চিমা বিশ্বের কিছু নেতার অভিযোগ, পুতিন ইউরোপে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে এসব দাবিকে তিনি ‘অবান্তর’ এবং ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সিএসটিও’র শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে পুতিন বলেন, “আমাদের এমন কোনো পরিকল্পনা কখনো ছিল না। যদি কেউ লিখিতভাবে আশ্বাস চাই, আমরা নথিভুক্ত করে দেব। এতে সন্দেহের অবকাশই থাকবে না।”
ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাধান প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ২৮ দফা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুতিন। তাঁর ভাষায়, ট্রাম্পের পরিকল্পনা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
পুতিন আরও বলেন, যুদ্ধ থামাতে রাশিয়া বাস্তব আলোচনার জন্য প্রস্তুত; তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে এবং ইউক্রেনের আরও অঞ্চল দখল করতেও তারা প্রস্তুত আছে।
তিনি শর্ত পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনী সরে গেলে লড়াই থেমে যাবে। অন্যথায় মস্কো যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্য অর্জন করবে।
কিয়েভ অবশ্য বলছে, এই ধরনের প্রত্যাহার মেনে নেওয়া হলে রাজধানী রক্ষাহীন হয়ে পড়বে এবং রাশিয়ার আক্রমণ সহজ হয়ে যাবে।
পুতিন জানান, তিনি আলোচনার দ্বার খোলা রাখতে চান। তবে জেলেনস্কির বর্তমান সরকারকে “অবৈধ” আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়। তাঁর দাবি—২০২৪ সালের মে-তে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন না হওয়ায় জেলেনস্কির বৈধতা ‘ক্ষয় হয়েছে’।
অন্যদিকে কিয়েভ জানাচ্ছে, সামরিক আইন চলাকালে এবং দেশ যুদ্ধাবস্থায় থাকায় নির্বাচন আয়োজন করা অসম্ভব। সেই কারণেই ইউক্রেনের সংসদ গত ফেব্রুয়ারিতে জেলেনস্কির পদে থাকার অনুমোদন দিয়ে প্রস্তাব পাস করে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ২৮ দফা একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যেখানে কিয়েভকে কিছু এলাকা ছাড়ার পাশাপাশি ন্যাটো আকাঙ্ক্ষা ত্যাগের বিষয়ও রয়েছে। এসব ধারাকে শঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করে সমালোচনা করছে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা।
জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার জানান, ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিরা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। জেনেভায় বিষয়টি নিয়ে পূর্বে কথা হলেও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। আগামী সপ্তাহে আরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ একটি প্রতিনিধি দলও শিগগিরই রাশিয়া সফর করবে। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।


