হংকং–চায়নার হাউজিং কমপ্লেক্সে লাগা ভয়াবহ আগুন ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আটটি ভবনের মধ্যে মাত্র চারটির আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে, আর নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ২৭৯ জন।
এটি গত আট দশকে দেশটির সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৭০০-র বেশি ফায়ার সার্ভিস কর্মী মোতায়েন করা হলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসছে না। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিনজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। তবে আগুন কীভাবে লাগল—তা এখনো পরিষ্কার নয়।
স্থানীয় সময় বিকেল তিনটার দিকে প্রথম আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর থেকেই একটানা চেষ্টা চলছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার। লেলিহান শিখার মুখোমুখি হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মীও।
উত্তরাঞ্চলের এই আবাসিক কমপ্লেক্সে মোট আটটি ব্লক—যেখানে প্রায় দুই হাজার অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, আর বাসিন্দাদের উল্লেখযোগ্য অংশই বয়স্ক। সর্বশেষ আদমশুমারি বলছে, এই পুরো কমপ্লেক্সে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মানুষ বাস করে। তবে সংস্কার কাজ চলমান থাকায় ঘটনার সময় ভবনগুলোতে ঠিক কতজন ছিলেন—তা নিশ্চিত নয়। আগুনটিকে লেভেল-ফাইভ ক্যাটাগরিতে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে—যা সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তর।
হাসপাতালে ভর্তি আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিখোঁজদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। ভবনের বাইরের অংশে সংস্কার কাজের জন্য যে বাঁশের মাচা তৈরি করা হয়েছিল, তা দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও হেল্প ডেস্ক।
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।


