ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর যেকোনো হামলাকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এই কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানায়।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর যেকোনো হামলাকে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনিকে হত্যা বা অপসারণের চেষ্টা বিবেচনা করছেন—এমন গুঞ্জনের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, 'আমাদের দেশের মহান নেতার ওপর হামলা মানে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ।'
গত দুই সপ্তাহে ইরানে যে বিক্ষোভ হয়েছে এবং তাতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
পেজেশকিয়ান বলেন, 'ইরানের জনগণের জীবনে যদি কষ্ট ও সীমাবদ্ধতা থাকে, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও তার মিত্রদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা এবং অমানবিক নিষেধাজ্ঞা।'
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প খামেনির প্রায় ৪০ বছরের শাসনের অবসান চেয়ে তাকে 'একজন অসুস্থ মানুষ' বলে মন্তব্য করেন। বলেন, খামেনির ইরান সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত এবং মানুষ হত্যা বন্ধ করা উচিত।
পেজেশকিয়ানের অভিযোগ—দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শত্রুতাই ইরানের অর্থনৈতিক সংকট এবং জনগণের দুর্ভোগের মূল কারণ।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইরানের বিক্ষোভ দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন আর বেকারত্বে ক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নামে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দেশটির সাধারণ মানুষ।
এর মধ্যেই ট্রাম্প ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার আশঙ্কাও তৈরি হয়, যদিও শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ওয়াশিংটন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এই দমন-পীড়নে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার হয়েছেন ২৪ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক ভাষণে খামেনি প্রথমবারের মতো স্বীকার করেন যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, 'যাদের কেউ কেউ অমানবিক ও বর্বরভাবে মারা গেছে'।
তিনি এই মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন, ট্রাম্পকে 'অপরাধী' বলে আখ্যা দেন এবং বিক্ষোভকারীদের কঠোর শাস্তির আহ্বান জানান।
গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) দেশটির পর্যবেক্ষকরা জানান, ইরানে কিছুটা ইন্টারনেট সংযোগ পুনরুদ্ধার হয়েছে। নেটব্লকস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, 'ট্রাফিক ডেটা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে গুগলসহ কিছু অনলাইন সেবা চালু হয়েছে, তবে তা সীমিত।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ এবং সর্বাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দেশের উত্তর-পশ্চিমের ইরানি কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায়। সেখানে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় এবং সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় এসব সংঘর্ষ সবচেয়ে সহিংস ছিল।
বর্তমানে ইরানের রাস্তায় আপাত শান্তি ফিরলেও ক্ষোভ থামেনি। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে মানুষ খামেনিবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। খামেনিকে ঘিরে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ঠেলে দিতে পারে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট মোঃ শরীফ মিয়া
অফিস ঠিকানা: বাড়ি নং ১৫ (৬ষ্ঠ তলা), রোড নং ১৯, সেক্টর নং ১১, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
somriddhabangladesh@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ. All rights reserved.