দৈনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
ঢাকাSunday , 23 November 2025
  1. Blog
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কর্পোরেট
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গুমের দুই মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে লড়বেন জেড আই খান পান্না

বার্তা কক্ষ
November 23, 2025 2:48 pm
Link Copied!

শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তারেক সিদ্দিকীসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ আগামী ৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পলাতক অবস্থায় থাকা শেখ হাসিনার পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নাকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগও করেছে ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (২৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ দিন নির্ধারণের আদেশ দেন।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টিএফআই–জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

হাজির করা ১৩ সেনা কর্মকর্তা হলেন—
র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (এলপিআর), সাবেক গোয়েন্দা পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

সেনা কর্মকর্তাদের হাজিরা উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকার নিরাপত্তা কয়েক ধাপ বাড়ানো হয়। পুলিশ, র‍্যাব এবং বিজিবির সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে অবস্থান নেন। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান— পরিস্থিতি যেভাবেই মোড় নিক, তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

২০ নভেম্বর এ মামলার শুনানির আগের দিন ধার্য ছিল, কিন্তু প্রসিকিউশনের আবেদনে আজকের দিন নতুন করে ঠিক করা হয়। ২৬ অক্টোবর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেন।

২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১৩ কর্মকর্তাকে প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পলাতক আসামিদের হাজির করতে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়— যা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

৮ অক্টোবর প্রসিকিউশন পৃথক দুটি মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। র‍্যাবের টিএফআই সেলে আটক রেখে নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—
শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কেএম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, মাহবুব আলম, আবদুল্লাহ আল মোমেন, সারওয়ার বিন কাশেম, খায়রুল ইসলাম, মশিউর রহমান জুয়েল এবং সাইফুল ইসলাম সুমন। তাদের মধ্যে ১০ জন সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে কারাগারে।

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা ‘আয়নাঘর’-এ গুমের অভিযোগে দায়ের করা আরেক মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায়ও শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম রয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী ও লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।
এ মামলায় তিনজন কারাগারে থাকলেও বাকিরা পলাতক।